মিঠাপুকুরে জামায়াতের যুব বিভাগের কর্মী শিক্ষা বৈঠক

সাজেদুর রহমান মিঠাপুকুর প্রতিনিধি।।

সমাজের মানুষ যেন জামায়াতের একজন কর্মীকে দেখেই ইসলামের সৌন্দর্য্য অনুধাবন করতে পারে সেভাবেই জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে তৈরি হতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগ মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী দায়িত্বশীল শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (২৬শে জুন) সকাল ৬টায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে দারসে কোরআন বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম আযম। তাঁর বক্তব্যে দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক ও নৈতিক মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এ সময় সুরা নিসার দুইটি আয়াত আলোচনা পর্যালোচনা করেন। 

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল,শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল হাশেম বাদল সহ উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সকল নেতৃবৃন্দ। 

প্রধান অতিথির মাওলানা এনামুল হক বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সমাজে ইনসাফ কায়েমের লড়াইয়ে যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কর্মীদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হলে কর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ময়দানে কাজ করতে হবে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি দায়িত্বশীলকে ধৈর্যের সাথে জনগণের পাশে থাকতে হবে।

প্রধান আলোচক মোস্তাক আহমেদ আত্মগঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।একটি উন্নত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুব ও ক্রীড়া বিভাগের নেতাকর্মীদের সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এদেশের জনগণ যদি যুব বিভাগকে তাদের সেবা করার দায়িত্ব প্রদান করে, তাহলে সেই দায়িত্ব সততা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সহিত পালন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের যেমন ইসলামের পূর্ণ অনুসারী হতে হবে, ঠিক তেমনি মানুষের কাছে ইসলামের মডেল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। সমাজের মানুষ যেন জামায়াতের একজন কর্মীকে দেখেই ইসলামের সৌন্দর্য্য অনুধাবন করতে পারে সেভাবেই জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে তৈরি হতে হবে।

আলোচকবৃন্দ আরো বলেন, আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন এই জমিনে তাঁর হুকুমাত প্রতিষ্ঠার জন্য যুগে যুবে নবী, রাসুল প্রেরণ করেছেন। যেহেতু আর কোনো নবী বা রাসুল আসবেন না, সেহেতু আল্লাহর খলিফা হিসেবে আমাদেরকেই দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হবে। এই কাজে বাধা আসবে, হামলা-মামলা, জেল-জুলুম আসতে পারে। কিন্তু একজন সত্যিকারের মু’মীন কখনো এসব জুলুম-নির্যাতনে ভীত হয় না। কোনো হামলা-মামলা মু’মীনকে তার পথ থেকে সরাতে পারে না।
তাঁরা আরোও বলেন,মিঠাপুকুরের প্রতিটি যুবকের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। আমি জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সমাজের সকল যুবকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার উদাত্ব আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিশেষ অতিথিরা বলেন,সাহাবায়ে কেরামদের (রা:) অতুলনীয় ত্যাগ ও কোরবানির উদাহরণ টেনে কর্মীদের সেই আদর্শ ও দৃঢ়তা নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করার আহ্বান জানান।ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই মুমিনের প্রকৃত পরিচয়।

 ​দিনব্যাপী এই শিক্ষাশিবিরে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দোয়া ও মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Post a Comment

0 Comments