রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ২ যুবক গ্রেপ্তার
সাজেদুর রহমান,মিঠাপুকুর রংপুর প্রতিনিধি।।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দুই মামাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে পরিকল্পিতভাবে ওই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলেন। এতে নিজেদের পরিচয় ও মাদক সেবনের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তারা পরিবারের সদস্যদের হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ জানায়, এরপর গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে একে একে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্ত দুই যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়নি। বরং চারজনের মরদেহ বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই তারা সেখানে রাত কাটায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরদিন সকালে তারা ওই বাড়িতে গোসল ও খাওয়া-দাওয়া করে। পরে বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে সেগুলো পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখে বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি তদন্তে নামে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে পুলিশের দেওয়া অভিযোগ ও তদন্তের তথ্যের বাইরে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে আরও স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Post a Comment