ব্রেকিং নিউজ

🔴 ব্রেকিং
🔥ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজে বাঁশের জাকলা, ১২ বছর ধরে দুর্ভোগে কেতকীবাড়ীর হাজারো মানুষ 🔥ডোমারের ভোগডাবুড়িতে চিলাহাটি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, পালাল মাদক কারবারি ও সেবীরা 🔥প্রতিবন্ধী দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় মায়ের জীবনসংগ্রাম, সহায়তার আকুতি 🔥জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম: সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি? ‎ 🔥দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে চিলাহাটির ‘পাখির গ্রাম’, প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা 🔥 সর্বশেষ সংবাদ জানতে চোখ রাখুন দৈনিক দ্বীনের আলোতে

ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজে বাঁশের জাকলা, ১২ বছর ধরে দুর্ভোগে কেতকীবাড়ীর হাজারো মানুষ

মোঃ রাকিবুল হাসান 
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় একটি ব্রিজ দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে সংস্কার ও স্থায়ী মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। ব্রিজটির দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই পারাপারের পথটি এখন পরিণত হয়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা গর্তের ওপর বাঁশের জাকলা তৈরি করে কোনো রকমে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির দুই পাশের মাটি ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও স্বাভাবিকভাবে পারাপার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেতকীবাড়ী দালানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠানপাড়া যাওয়ার পথে অবস্থিত এই ব্রিজটি দিয়ে আশপাশের অন্তত তিন গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ প্রায় হাজারো মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে অসাবধান হলে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে এসব গর্তের ওপর বাঁশের জাকলা তৈরি করা হয়েছে। সেই বাঁশের তৈরি অস্থায়ী পথ দিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
শুধু পায়ে হেঁটে নয়, প্রয়োজনের তাগিদে অনেককে মোটরসাইকেল নিয়ে ব্রিজের কাছে এসে সেটি নামিয়ে ঠেলে বাঁশের জাকলার ওপর দিয়ে পার হতে দেখা যায়। এ সময় সামান্য ভারসাম্য হারালেই মোটরসাইকেলসহ নিচে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্রিজটির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির দুই পাশের মাটি ভেঙে পড়ে থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মানুষের চলাচলের কথা বিবেচনা করে স্থানীয়রাই নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
তারা আরও জানান, এলাকার কোনো অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হলে এই পথ ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ব্রিজটি দিয়ে সরাসরি পারাপার সম্ভব না হওয়ায় অনেক সময় তিন থেকে চার কিলোমিটার ঘুরে রোগী নিয়ে যেতে হয়। এতে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হয়।
শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথে যাতায়াত করছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন এত মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান বলেন, “আমার ইউনিয়নের ঠাটারীপাড়া ও পাঠানপাড়া এলাকার মাঝখানে ব্রিজটি অবস্থিত। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই এটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি বলেন, “ব্রিজটি দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় হাজারো মানুষ চলাচল করেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান বলেন, “ব্রিজটির বিষয়ে আমি অবগত রয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। সেখানে বক্স টাইপ ব্রিজ দেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু ব্রিজ নির্মাণ করলে সেটি টেকসই হবে না, ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে পাইলিংয়ের প্রয়োজন হবে। আমরা পাইলিংয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে এলাকাটি আবারও বিশেষভাবে পরিদর্শন করা হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ব্রিজটি টেকসইভাবে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করবে। এতে তিন গ্রামের মানুষের নিরাপদ চলাচলের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও কমবে।

No comments