ডোমারের ভোগডাবুড়িতে চিলাহাটি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, পালাল মাদক কারবারি ও সেবীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ডোমার নীলফামারী।।
মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ১৯আগষ্ট দিনব্যাপী বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি চৌকস দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) বাদশা।
অভিযানে তাঁর সঙ্গে অংশ নেন পুলিশ সদস্য অর্নব, জাকির, ফাহিম ও মো. সুমন মিয়া। পুলিশের দলটি ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জসহ বিভিন্ন সন্দেহভাজন এলাকা, মাদক কারবারিদের সম্ভাব্য অবস্থান এবং মাদক সেবনের আড্ডাখানা হিসেবে পরিচিত স্থানগুলোতে অভিযান চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা বিভিন্ন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব না হলেও অভিযানের সময় একাধিক মাদক সেবনের আস্তানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এসব দৃশ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, অভিযানের ঠিক আগ মুহূর্তেও সেখানে মাদক সেবনের কার্যক্রম চলছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এ সময় অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা। তারা অভিযানের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং পুলিশের তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের আনাগোনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। পুলিশের এমন অভিযান তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তারা মাদক নির্মূলে আরও ঘনঘন ও আকস্মিক অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি বাদশা বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকসেবী, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সময় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।"
চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র জানিয়েছে, মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Post a Comment