লাখাইয়ে নাছিমা ধর্ষণ মামলার আসামী কে ফাঁসানোর জন্য মামলার আলামত শিশু সন্তান উধাও এর নাটক, জেলা জুড়ে তোলপাড়
এম এ ওয়াহেদ,লাখাই হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কাটিহারা গ্রামের নাছিমা ধর্ষণ মামলার আসামী পক্ষ কে ফাঁসানোর জন্য নিজের শিশু কন্যা সন্তান কে নিজেই সরিয়ে দিয়ে ধর্ষণ মামলার আলামত উধাও এর নাটক ফাঁস। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি পত্রিকা ধর্ষণ মামলার আলামত উধাও শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে সারা জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় গত ৫ই আগষ্ট পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গেলে শিশু সন্তানের শারীরিক অবস্থা নাজুক হওয়ায় তাকে হবিগঞ্জ জেলা সদরে আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন। এরই প্রেক্ষিতে ভিকটিম নাছিমা তার ভাবী রুপনাহার কে নিয়ে নাজু আক্তার নাম দিয়ে শিশু সন্তান কে বিকেল ৩ টা ৪০ মিনিটে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা সেবা চলমান অবস্থায় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আন্দিউরা ইউনিয়নের হারিয়া গ্রামের জনৈক মেরাজ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া ও তার সঙ্গীয় ২ মহিলার সাথে নাছিমার পরিচয়ের সুবাদে এক পর্যায়ে নাছিমা জনৈক রুবেল মিয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়ে তার শিশু সন্তানকে লিখিতভাবে ওইদিনি দত্তক দিয়ে দেন। কিন্তু ওই রাতে ভিকটিম নাছিমা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে চেচামেচি করে বলে আমার শিশু সন্তান হাসপাতাল থেকে উধাও এর সংবাদ পেয়ে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট পুলিশ। তাৎক্ষণিক পুলিশ তদন্তে নামে এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে কি ঘটছে তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী মাধবপুর উপজেলার জনৈক রুবেল ও ২ মহিলার সন্ধান পেয়ে তাদের কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার মূল নাটকীয়তা বেরিয়ে আসে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল হক এ প্রতিনিধিকে জানান,ভিকটিম নাছিমা স্বইচ্ছায় তার সন্তান কে তাদের কাছে দত্তক দিয়েছে মর্মে ভিডিও বক্তব্যে সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সুজন চন্দ্র পাল বলেন ভিকটিমের সন্তান উধাও হয়েছে সংবাদ পেয়েছি কিন্ত ওই সন্তান কোথায় আছে তা আমার জানা নেই। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল হক জানান, সন্তান কোথায় আছে এ বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করেছি। তিনি আরো জানান, ওই সন্তানটি বর্তমানে মাধবপুর জনৈক রুবেলের কাছেই আছে। জনৈক রুবেল এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন শিশুটি বর্তমানে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী ডাক্তার সঞ্জয় বলেন রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি একটি শিশু কে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন সে বর্তমানে মহিলা ওয়ার্ডের ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে মামলার বাদী তাহেরা ও তার ভাই ছফিল মিয়া এ সংক্রান্ত বিষয়ে সম্পুর্ন অস্বীকার করে করে নাটকীয় ভাবে বলেন আমরা কিছুই জানি না। এ পর্যায়ে এ প্রতিনিধির সাথে অশুভ আচরণ করে বলেন আমাদের কে আর কোন দিন ফোন দিবেন না। এ দিকে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন বাচ্চা উধাও এর ঘটনা আমরা জানার আগে পুলিশ জেনেছে সে জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করি নাই। তবে এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল মনে করছেন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ভিকটিম নাছিমা এ নাটক করেছে আবার অনেকই মনে করছেন এই অপকর্মের সন্তানের পিতা কে হবে তা প্রমান করতে পারবে না মনে করে নিজেই নিজের সন্তান কে উধাও এর নাটক করেছে। এ ঘটনায় সারা জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
Post a Comment