সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক সহায়তা পেলেন অসহায় হাসিনা বেগম
মোঃ মকবুলার রহমান
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি।।
সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মানবিক সহায়তা পেলেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সীমান্তবর্তী ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ ঝাড়কুয়াপাড়া গ্রামের অসহায় নারী হাসিনা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রতিবন্ধী সন্তান, এক সুস্থ সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে নানা সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করে আসছিলেন তিনি। তার দুর্দশার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের।
রোববার দুপুরে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্নী হাসিনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাপনের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন।
পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসিনা বেগমের পরিবারের জন্য দুটি হুইলচেয়ার, শুকনো খাবার, মশারি, স্কুলব্যাগসহ শিশুদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। প্রায় চার বছর আগে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর পরিবারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। দুই প্রতিবন্ধী সন্তান, এক সুস্থ সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে সংসার চালাতে তাকে অন্যের বাড়িতে কাজ এবং দিনমজুরি করতে হয়েছে। সামান্য আয় দিয়ে পরিবারের খাবার, সন্তানদের প্রয়োজনীয়তা ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ মেটানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় গত ৬ আগস্ট ‘প্রতিবন্ধী দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় মায়ের জীবনসংগ্রাম, সহায়তার আকুতি’ শিরোনামে দৈনিক দ্বীনের আলো অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাসিনা বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হাসিনা বেগম উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাচ্চাগুলোকে শুকনো খাবার দিছে, দুইটা হুইলচেয়ার দিছে, মশারি দিছে, স্কুল ব্যাগ দিছে। আমার বাচ্চাদের অনেক সাহায্য করছে। আমার ছেলে একটা লেখাপড়া করে। ওইটার জন্য আমি একটা চাকরির আবেদন জানাইছি। আমার ছেলের একটা চাকরি দিলে ভালো হতো।”
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তার পরিবারের দুর্দশার কথা প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ জন্য সংবাদকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
হাসিনা বেগমের পরিবারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিশেষ করে পরিবারের জন্য একটি টয়লেটের ব্যবস্থা করাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছে হাসিনা বেগমের পরিবার। দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও কষ্টের মধ্যে হুইলচেয়ার, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এমন পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার সাহস পাবে। হাসিনা বেগমের পরিবারের মতো অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত আরও বিস্তৃত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
Post a Comment