ব্যাপক লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ডোমারের জনজীবন, ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে বাড়ছে ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ঘরোয়া কাজের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাকার্যক্রম এবং বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিজনির্ভর দোকান, সেলুন, ওয়ার্কশপ, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় এবং রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারকারী রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে অনেক গ্রাহক বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, আগের মাসের তুলনায় বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও বিল এসেছে অস্বাভাবিকভাবে বেশি। অনেকের অভিযোগ, মিটার রিডিং, বিল প্রস্তুত কিংবা হিসাব প্রণয়নের ক্ষেত্রে ত্রুটি বা অনিয়মের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভাষ্য, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বিল বেড়েই চলেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিল সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, একদিকে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং এবং অন্যদিকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগ ওঠা বিলগুলো পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
গ্রাহকদের আরও দাবি, এলাকাভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে মিটার পরীক্ষা, রিডিং যাচাই এবং বিল নিরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। প্রকৃত ত্রুটি বা অনিয়ম শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি কমবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অভিযোগকৃত বিল তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও যেতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
Post a Comment