নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলতি বছরেই একনেকের অনুমোদন পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, তিস্তা নদীতে সারা বছর পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নদীভিত্তিক অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
সম্প্রতি তিস্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ এবং নদী ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়; বরং তিস্তাকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এজন্য নদীতে বছরব্যাপী পানিপ্রবাহ বজায় রাখা এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে তিস্তা নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানিসংকটের কারণে হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। অনেক কৃষক ফসল উৎপাদনে ক্ষতির সম্মুখীন হন, আবার অনেক পরিবার নদীগর্ভে বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয়দের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য এবং পরিবেশ খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা আশা করছেন, একনেকে অনুমোদনের পর দ্রুত প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু হবে এবং বহু বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। তাদের প্রত্যাশা, সরকারের ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

0 Comments