ডোমারে চলন্ত নীলসাগর এক্সপ্রেস থেকে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ডোমার (নীলফামারী):
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় চলন্ত নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পড়ে রিফাত ইসলাম (৯) নামে এক স্কুলছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার একটি পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও ডোমার ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের পাশের উত্তরপাড়া রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘটনাস্থল অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর রেললাইন থেকে একটি শিশুর “বাঁচাও, বাঁচাও” চিৎকার শুনতে পান আশপাশের লোকজন। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে রেললাইনের ওপর গুরুতর আহত অবস্থায় এক শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ডোমার ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
পরে আহত শিশুটির পরিচয় জানা যায়। তার নাম রিফাত ইসলাম। সে সৈয়দপুরের তুলসীরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শামীম ইসলাম পেশায় একজন রিকশাচালক।
আহত রিফাত ইসলাম জানায়, সে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রা করছিল। একপর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কেউ ধাক্কা দিলে সে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে পড়ে যায়। এতে তার একটি পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিদুল ইসলাম বলেন, “রেললাইন থেকে একটি শিশুর আর্তচিৎকার শুনে আমরা কয়েকজন দ্রুত সেখানে যাই। গিয়ে দেখি সে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর দেরি না করে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।”
খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত রিফাতকে উদ্ধার করে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর হাসপাতালে পাঠায়। সময়মতো উদ্ধার হওয়ায় শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে রিফাতের দাবি অনুযায়ী তাকে কেউ ধাক্কা দিয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে সে ট্রেন থেকে পড়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টরা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল চলন্ত ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভ্রমণ না করার জন্য যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার, সচেতনতামূলক প্রচার বৃদ্ধি এবং ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
Post a Comment