সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে- প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
বিমল কুমার রায়,পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজনে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় দেবীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম টুটুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “আমি আপনাদের দ্বারা সংবর্ধিত হতে চাই না; বরং আমি সমগ্র শিক্ষক সমাজকে সংবর্ধিত করতে চাই। কারণ, শিক্ষকরা জীবনের পুরো সময়টুকু মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।”
তিনি বলেন, “আমি জানি, শিক্ষক সমাজের অগণিত দুঃখ-কষ্ট ও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব দুঃখ-কষ্ট দূর করার লক্ষ্যে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তকরণ ও জাতীয়করণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের সন্তানদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”
যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষক সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; তাদের নীতি-নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একটি নীতিনৈতিকতাসমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষক সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সমাবেশে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সোহাগ নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনতিবিলম্বে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট কলেজ শাখার সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান নানা সংকটে রয়েছে। দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব না হলে অদূর ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম টুটুল উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নিজস্ব বসার স্থান বরাদ্দের দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি প্রধান অতিথির সহযোগিতা কামনা করেন।
Post a Comment