গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ছকিনা খাতুনের পাশে ‘আলোর সন্ধানে বিওপি বাজার যুব সংগঠন’
মোঃ মকবুলার রহমান
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের সব্দিগঞ্জ এলাকায় অসহায় ছকিনা খাতুনের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তার পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ‘আলোর সন্ধানে বিওপি বাজার যুব সংগঠন’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছকিনা খাতুনের পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংগঠনটির সদস্যরা ছকিনা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে থাকা একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটির এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১অক্টোবর) দৈনিক দ্বীনের আলো, দৈনিক সকালবেলা, রাকিবুল অনলাইন ও চিলাহাটি টাইমস ফেসবুক পেজে প্রতিবন্ধী ১ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে ছকিনা খাতুনের অসহায়ত্ব, পরিবারের দুরবস্থা ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি বিভিন্ন মহলের নজরে আসার পর ‘আলোর সন্ধানে বিওপি বাজার যুব সংগঠন’ ছকিনা খাতুনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়।
সহায়তা পাওয়ার পর ছকিনা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। প্রয়োজনের সময়ে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংগঠনটির সদস্যরা বলেন, সমাজে অনেক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ রয়েছেন, যারা নানা সংকটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন না। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ছকিনা খাতুনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘আলোর সন্ধানে বিওপি বাজার যুব সংগঠন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংগঠনটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “মানবতার সেবায় আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
এদিকে, ছকিনা খাতুনের অসহায়ত্বের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর একটি যুব সংগঠন তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সমাজের কোনো অসহায় মানুষের দুর্দশার খবর গণমাধ্যমে উঠে আসার পর ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার সাহস পায়।
তারা আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনসহ সমাজের প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক পরিবারের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব। ছকিনা খাতুনের মতো অসহায় পরিবারের পাশে ভবিষ্যতেও সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Post a Comment