Trending

6/recent/ticker-posts

দেবীগঞ্জে লটকন বাগানে সম্ভাবনার আলো, সফল উদ্যোক্তা বিজিবি সদস্য রাসেল

‎বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড়  প্রতিনিধি: 
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সরকারি চাকরি (বিজিবি) অর্থাৎ দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষিতেও সফলতার নজির গড়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্য মো: বাদশা ওরফে রাসেল। 
‎পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের চতুরাডাঙ্গী বাদামবাড়ি গ্রামের রাসেল মিয়া ৩ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান। ঐ বাগানে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করে ইতোমধ্যে সাফল্য পেয়েছেন। 
‎গতকাল শুক্রবার রাসেলের লটকন বাগান সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  সারিবদ্ধ সুপারি গাছের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা লটকন গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে, গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা লটকন। সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে হলুদাভ রঙের পাকা লটকন। কোনো কোনো থোকায় শতাধিক ফলও দেখা গেছে। বাগানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রতিদিনই বাগান দেখতে স্থানীয়দের ভিড় বাড়ছে। ইতোমধ্যে ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন উদ্যোক্তা রাসেল ইসলাম।
‎এছাড়াও লটকনের পাশাপাশি বাগানে রয়েছে ১,৭০০টি সুপারি, ২০০টি ব্যানানা ম্যাংগো, ৩০০টি পেয়ারা, ৭০টি মাল্টা, ১০০টি দার্জিলিং কমলা, ৭০টি পেঁপে, ২০ জাতের আঙুরসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৫০ প্রজাতির ফলের গাছ। পাশাপাশি ফলের চারা উৎপাদন ও অর্গানিক ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রস্তুত ও বিপণন করা হয়।
‎জানা যায়, রাসেল ইসলাম ২০২০ সালে সরকারি চাকুরী করার পাশাপাশি শখের বশে বাগান করার উদ্যোগ নেন। ছুটি ও অবসর সময়ে নিজেই বাগানের পরিচর্যা ও তদারকি করতেন। তার অনুপস্থিতিতে বাগান দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতেন রাসেলের স্ত্রী জান্নাতুল আক্তার পাপড়ি।
‎রাসেল ইসলাম জানায়, বর্তমানে তার বাগানে ৩০০টি লটকন গাছ রয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ১২০টি গাছে ফল এসেছে।  প্রতি গাছে প্রায় ৪০ কেজি হারে মোট ১২০ কেজি লটকন উৎপাদন হবে বলে জানান তিনি।  বাগানটি গড়ে তুলতে এপর্যন্ত  প্রায় ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন এবং গত বছর সুপারি ও লটকন বিক্রি করে প্রায় ৫লক্ষ টাকা মুনাফা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। বাগানে এখন প্রতিদিন প্রায় ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন,  যা এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও সরবরাহ করা হচ্ছে।
‎জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পঞ্চগড় জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬৬০ হেক্টর জমিতে সুপারি এবং ৪৫ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ রয়েছে। জেলার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য উপযোগী।
‎দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, চাকরির পাশাপাশি বিজিবি সদস্য রাসেলের বাণিজ্যিক লটকন চাষ প্রশংসনীয়। সঠিক পরিচর্যায় তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন, যা স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করবে। কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

Post a Comment

0 Comments