জামালপুরের মেলান্দহে জমি দখলের প্রতিবাদ করায় বিপাকে পরিবার, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি
কাওছার আহমেদ
জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর।।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে বাড়ি নির্মাণ এবং প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নুরজাহান বেগম, মো. মোফাজ্জল, আব্দুর রশিদ ও আব্দুল জলিলসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত থেকে তাঁদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, মেলান্দহ উপজেলার সাদুরপুর গ্রামে তাঁদের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ২৪ শতাংশ জমি রয়েছে। একই এলাকার ইনতাজ, মমতাজ, খলিল ও মাসুদসহ কয়েকজন ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে তাঁদের দাবি। জমি দখলের প্রতিবাদ জানাতে গেলে উল্টো তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং হামলার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের হুমকি ও হয়রানির আশঙ্কায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
তাঁরা আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তাঁরা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি বলে মনে করছেন। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জমির বিরোধ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান, দখলসংক্রান্ত সমস্যার আইনানুগ সমাধান এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে এলাকার সচেতন মহলের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত সমাধান হলে তাঁরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইনতাজ, মমতাজ, খলিল ও মাসুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
Post a Comment