বাঁচতে চায় আরিফুল, প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা
কাওছার আহমেদ,জামালপুর প্রতিনিধি।।
তিন বছর আগে স্ত্রী বর্ষা খাতুনের কোল আলোকিত করে আসে তাদের একমাত্র ছেলে আদিল আহনাফ। সন্তান জন্মের পর পরিবারে যখন আনন্দের বন্যা বইছিল, ঠিক তখনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আরিফুল ইসলাম খুশু।
প্রথম দিকে সাধারণ কোনো অসুখ মনে হলেও দিন দিন বাড়তে থাকে তার অসুস্থতা। পরে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে আরিফুল ইসলাম খুশুর দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে।
এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এভাবে কেটে গেছে তিন বছর। বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাওডাঙা গ্রামের দুই কিডনি বিকল হওয়া আরিফুল ইসলাম। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা না হলে অকালে ঝরে যেতে পারতেন ২৮ বছর বয়সী আরিফুল।
তাই সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।
উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধর, পরে মিলল মেয়ের মরদেহ
জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরিফুল ইসলাম খুশু। কিডনি ডায়ালিসিস ও চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন একসময়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম। আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারের অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। অর্থসংকটের কারণে মাঝে মাঝে বন্ধ রাখতে হচ্ছে চিকিৎসাও। ধারদেনা করে কোনোমতে সংসার ও চিকিৎসা চলছে তার। কিডনি বিকল হওয়ার পর একমাত্র ছেলেকে নিয়েই সময় কাটছে আরিফুল ইসলাম খুশুর।
দুঃসময়েও এখনো তার পাশে রয়েছেন স্ত্রী বর্ষা খাতুন। এখন তিন বছর বয়সী একমাত্র ছেলের জন্যই বাঁচতে চান আরিফ। তবে তাকে বাঁচাতে হলে অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করা আরিফুলের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি ভিটেমাটি বিক্রি করেও এত টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব নয় এই পরিবারটির পক্ষে।
তাই সরকার, দানবীর, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সহায়তা চান আরিফুল ও তার স্ত্রী। সহৃদয়বান মানুষের একটু সহায়তায় বেঁচে যেতে পারে একটি জীবন।
এ বিষয়ে কিডনি রোগী আরিফুল ইসলাম খুশু বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে কিডনি বিকল হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলে আমার বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশবাসীর কাছে আর্থিক সহায়তা কামনা করছি। আমি বেঁচে গেলে আমার ছেলে ও স্ত্রী ভালোভাবে বাঁচতে পারবে।
আরিফুলের স্ত্রী বর্ষা খাতুন বলেন, আরিফুলকে বাঁচাতে অনেক টাকা প্রয়োজন। কেউ যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, তাহলে আমার স্বামী বেঁচে যাবে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, আমরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়াব। আর্থিক ব্যবস্থার জন্য জেলা পরিষদ ও সমাজসেবা কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। পাশাপাশি বর্তমানে আরিফের পরিবারে কোনো কিছু প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে।
এছাড়াও তিনি সমাজের বিত্তবানদের আরিফুলের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
Post a Comment