মেলান্দহে খাসজমি থেকে ড্রেজারে মাটি উত্তোলন, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড
কাওছার আহমেদ,জামালপুর প্রতিনিধি।।
জামালপুরের মেলান্দহে সরকারি খাসজমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের দায়ে মুনছুর আলী (২৮) নামে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তিনটি ড্রেজার ও দুটি সেলোমেশিন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের শেখসাদী রৌমারী বিলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন কাওছার।
অভিযান চলাকালে সরকারি খাসজমি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলনের সময় মুনছুর আলীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মুনছুর আলী দক্ষিণ ঝাউগড়া এলাকার অজর আলীর ছেলে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ড্রেজার ও দুটি সেলোমেশিন জব্দ করা হয়। এসব যন্ত্রপাতি স্থানীয় ১০ নম্বর ঝাউগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজাহার আলী ও দুলুদের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঝাউগড়া বিল ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ড্রেজার দিয়ে রাত-দিন মাটি উত্তোলন করে আসছে। এতে বিলসংলগ্ন শত শত কৃষকের আবাদি জমি ভাঙন ও ক্ষতির মুখে পড়েছে। কৃষিজমির শ্রেণি ও মাটির গঠন নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষককে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনকারীরা কৃষকদের অনেকটা জিম্মি করে রেখেছে। কেউ প্রতিবাদ করলে কিংবা মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে একটি চক্র লাভবান হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, অবৈধভাবে সরকারি খাসজমি থেকে মাটি উত্তোলনের বিষয়টি ১০ নম্বর ঝাউগড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে জানানো হলেও অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মেলান্দহ সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানান অভিযোগকারীরা।
পরে সোমবার সকালে বিষয়টি মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরাকে অবহিত করেন স্থানীয়রা। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের সত্যতা পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার ব্যবসায়ী মুনছুর আলীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানের পর এলাকাবাসী সরকারি খাসজমি রক্ষা ও অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন কাওছারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন কাওছার বলেন, সরকারি খাসজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Post a Comment