ব্রেকিং নিউজ

🔴 ব্রেকিং
🔥দেবীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পঞ্চানন বর্মার ৯২তম তিরোধান দিবস পালিত 🔥ডোমারে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙা সড়ক সংস্কার ‎🔥গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা 🔥সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক সহায়তা পেলেন অসহায় হাসিনা বেগম ‎🔥ভোগডাবুড়ীর উন্নয়নের স্বপ্নে হাসিমুখে চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু 🔥দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে চিলাহাটির ‘পাখির গ্রাম’, প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা 🔥 সর্বশেষ সংবাদ জানতে চোখ রাখুন দৈনিক দ্বীনের আলোতে

ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ায় করলার সবুজ বিপ্লব, কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ মকবুলার রহমান
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি।।

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের যাদুর বাঁধ এলাকায় করলা চাষ ঘিরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একসময় অনাবাদি কিংবা তুলনামূলক কম উৎপাদনশীল হিসেবে পড়ে থাকা জমিতে করলার আবাদ করে ভালো ফলন পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে করলা চাষ থেকে অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় ভালো আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন চাষিরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাদুর বাঁধ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া করলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। প্রায় দুই বছর আগে কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে এ এলাকায় করলার আবাদ শুরু করেন। প্রথম দিকে অনেকেই বিষয়টিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হিসেবে দেখলেও ফলন, বাজারে চাহিদা ও নিয়মিত বিক্রির সুযোগ দেখে এখন আশপাশের কৃষকরাও করলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ হাচানুল ইসলাম বলেন, আগে তিনি ওই জমিতে অন্যান্য ফসল চাষ করতেন। করলা চাষ শুরু করার পর তুলনামূলক ভালো ফলন পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “করলা গাছে নিয়মিত পরিচর্যা করলে একবার ফলন শুরু হওয়ার পর বারবার করলা সংগ্রহ করা যায়। বাজারদর ভালো থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকে।”
আরেক কৃষক মোঃ মিজানুর রহমান (মিজান) বলেন, করলা চাষের শুরুতে মাচা তৈরি, বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে বেশ কিছু খরচ হয়। তবে ফলন শুরু হলে প্রতিদিন বা নির্দিষ্ট সময় পরপর ক্ষেত থেকে করলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করা যায়। এতে এককালীন আয়ের পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকে।
তিনি বলেন, “করলা বিক্রি করে সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে আমাদের এলাকার কৃষকদের মধ্যে এ চাষ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।”
স্থানীয় কৃষক মোঃ হানিফা ও খয়রুল বলেন, এ এলাকার অধিকাংশ পরিবারই কৃষিনির্ভর। প্রচলিত কোনো ফসলের বাজারদর কমে গেলে কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কা থাকে। তাই একই জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। করলার বাজারদর ভালো থাকলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ সবজির আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তারা।
কৃষকরা জানান, করলা চাষে প্রথমে জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করতে হয়। এরপর গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাচা তৈরি, সার ও সেচ প্রদান এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। যথাযথ পরিচর্যা করা হলে গাছে পর্যায়ক্রমে ফলন আসে। ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা করলা স্থানীয় বাজার ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন হাটে বিক্রি করা যায়। ফলে তুলনামূলক দ্রুত নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকায় কৃষকদের কাছে এ চাষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
তবে উৎপাদন খরচ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তাদের ভাষ্য, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় সবজি উৎপাদনে ব্যয়ও ক্রমাগত বাড়ছে। অনেক সময় বাজারে করলার দাম কমে গেলে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় উৎপাদিত করলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন তারা।
কৃষকদের প্রত্যাশা, উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে করলা চাষে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত সবজি সরাসরি বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের তুলনামূলক ভালো দাম পাবেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি মৌসুমি সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা গেলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়তে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যাদুর বাঁধ এলাকায় করলা চাষে পাওয়া সাফল্য আশপাশের এলাকার কৃষকদেরও সবজি চাষে উৎসাহিত করতে পারে।
কৃষকদের ভাষ্য, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্যমূল্য ও বাজারজাতকরণের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে করলা চাষকে আরও লাভজনক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব। এতে অনাবাদি ও কম উৎপাদনশীল জমিও কৃষিকাজের আওতায় আসতে পারে।
সব মিলিয়ে ডোমারের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের যাদুর বাঁধ এলাকায় করলার সবুজ ক্ষেত এখন কৃষকদের কাছে শুধু একটি সবজি চাষ নয়, বরং বাড়তি আয়ের সম্ভাবনার নতুন দ্বার হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে আগামী দিনে এ অঞ্চলে করলার আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।

No comments