দেবীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পঞ্চানন বর্মার ৯২তম তিরোধান দিবস পালিত
বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার পেড়ালবাড়ি সমিতির ডাংগায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ক্ষাত্রকূল শিরোমণি রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার ৯২তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পেড়ালবাড়ি সমিতির ডাংগার শ্রী শ্রী সীতানাথ মহাক্ষেত্র ধামে বাংলাদেশ ক্ষত্রিয় সমিতি ও শ্রী শ্রী সীতানাথ মহাক্ষেত্র ধামের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ধামের সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ উমাপতি রায়ের সভাপতিত্বে পঞ্চানন বর্মার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বক্তব্যে তিনি ক্ষত্রিয় সমিতির সঙ্গে থেকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ক্ষত্রিয় সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জীতেন্দ্রনাথ রায়, সদস্য সচিব বিপ্লব রায়, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্রনাথ বর্মন, সাবেক সভাপতি গোরাচাঁদ অধিকারী, ঠাকুরগাঁও জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল চন্দ্র বর্মন, পঞ্চগড় জেলা ক্ষত্রিয় সমিতির সভাপতি ও সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জীবধন বর্মন, রংপুর কারমাইকেল কলেজের সাবেক অধ্যাপক বিমল কুমার বর্মনসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষত্রিয় সমিতির নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন। বাংলার তৎকালীন বর্ণবাদী হিন্দু সমাজে রাজবংশী সম্প্রদায়ের অবহেলা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি ক্ষত্রিয় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। রাজবংশী জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত ও শিক্ষিত করে তাদের ‘পৌন্ড্রক্ষত্রিয়’ হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা করা ছিল তাঁর আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি ১৩১৭ বঙ্গাব্দের ১৮ জ্যৈষ্ঠ রংপুরে ক্ষত্রিয় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। রাজবংশী শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ক্ষত্রিয় ছাত্রাবাস, দরিদ্রদের সহায়তায় কুড়িগ্রামে ক্ষত্রিয় ব্যাংক এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘ক্ষত্রিয়’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে রাজবংশীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এ ছাড়া পঞ্চানন বর্মা রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ১৩১৩ থেকে ১৩১৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত তিনি ‘রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
ক্ষত্রিয় আন্দোলনের অংশ হিসেবে বাংলা ১৩১৯ সালের ২৭ মাঘ দেবীগঞ্জে লক্ষাধিক রাজবংশীর গণউপনয়ন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে রাজবংশীদের মধ্যে ব্রাহ্মণ্য রীতিনীতি পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
Post a Comment