গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
মোঃ মকবুলার রহমান
ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীসহ উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো ফলাফল অর্জন, উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই প্রতিষ্ঠানে ছিল উৎসবের আমেজ। কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোঃ রেয়াজুল ইসলাম কালু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ রেজওয়ানুল করিম সাজি, মোঃ আব্দুর রউফ, মোঃ আব্দুল মালেক ও মোঃ রবিউল ইসলাম শাহ্। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফারুক হোসেন রাজু।
প্রধান অতিথি, সভাপতি ও অন্যান্য অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। পরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব শুরু হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীসহ উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। তাদের হাতে সংবর্ধনা ও সম্মাননা তুলে দিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য উৎসাহিত করা হয়। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে তার নিজের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস একজন শিক্ষার্থীকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
তারা শিক্ষার্থীদের বর্তমান সাফল্যে আত্মতুষ্ট না হয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়িয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন তারা।
মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা সমাজে মাদক ও জুয়ার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন।
বক্তারা বলেন, মাদক ও জুয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, পরিবার ও সমাজেও অস্থিরতা তৈরি করে। তাই শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই মাদক, জুয়া, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং যেকোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে।
তারা বলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে খারাপ সঙ্গ পরিহার করে ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সৃজনশীল চর্চা ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। নিজেদের মেধা ও প্রতিভাকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য সম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান বক্তারা।
শিক্ষার্থীদের হাতে ভবিষ্যৎ গড়ার বার্তা
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটিই শেষ নয়। সামনে রয়েছে উচ্চশিক্ষার দীর্ঘ পথ। সেই পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে হলে এখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।
শৃঙ্খলা, সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমকে জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পাশে থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।
প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ
কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি মোঃ রেয়াজুল ইসলাম কালু, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ রেজওয়ানুল করিম সাজি ও অধ্যক্ষ মোঃ ফারুক হোসেন রাজুসহ সংশ্লিষ্টরা একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। বক্তারা বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থী আদর্শ নাগরিক হয়ে ওঠে না। পরিবেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধও একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণায় এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা
আয়োজকরা জানান, কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের সামনে সফলতার উদাহরণ তুলে ধরলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হয়। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য, মাদক ও জুয়া বিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষা, নৈতিকতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে। কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মাদক-জুয়া থেকে দূরে রেখে আদর্শ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের দিনটি স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
Post a Comment