ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ডোমারের ভোগডাবুড়িবাসীর জনজীবন
মোঃ মকবুলার রহমান,ডোমার নীলফামারী প্রতিনিধি।।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অনেক সময় আধা ঘণ্টা থেকে শুরু করে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। আবার কিছুক্ষণ বিদ্যুৎ থাকার পর পুনরায় লোডশেডিং শুরু হয়। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিয়মিত পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট সংযোগও দুর্বল হয়ে পড়ছে, ফলে অনলাইন ক্লাস, তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের বাজারগুলোতে বিশেষ করে চিলাহাটি, গোসাইগঞ্জ, মুক্তিরহাট, বিওপি বাজার ও বৌবাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফ্রিজ, ফ্রিজার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে খাদ্যপণ্য ও সংরক্ষিত মালামাল। কম্পিউটার, ফটোকপি, মোবাইল সার্ভিসিং, সেলুন, টেইলার্সসহ বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর কাজ বারবার থেমে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে এবং গ্রাহকদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কৃষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকলে কৃষিকাজ ব্যাহত হবে এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। অনেক এলাকায় বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা করায় বৈদ্যুতিক মোটর ও গৃহস্থালির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
Post a Comment