ব্রেকিং নিউজ

🔴 ব্রেকিং
🔥ইসলামপুরে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে যুবদল নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা 🔥নিয়োগপত্রের দাবিতে জামালপুরে ৫১ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের আমরণ অনশন 🔥মনজুরুল আহসান খানের জন্মবার্ষিকীতে ইসলামপুরে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির 🔥চিলাহাটিতে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ আটক-১ 🔥দেবীগঞ্জে সহস্রাধিক তালবীজ বপন করল ‘আলোকিত কালীগঞ্জ' 🔥দেবীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পঞ্চানন বর্মার ৯২তম তিরোধান দিবস পালিত 🔥ডোমারে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙা সড়ক সংস্কার ‎🔥গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা 🔥সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক সহায়তা পেলেন অসহায় হাসিনা বেগম ‎🔥ভোগডাবুড়ীর উন্নয়নের স্বপ্নে হাসিমুখে চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু 🔥দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে চিলাহাটির ‘পাখির গ্রাম’, প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা 🔥 সর্বশেষ সংবাদ জানতে চোখ রাখুন দৈনিক দ্বীনের আলোতে

‎তিন সন্তানের জননী ছকিনার আকুতি, প্রতিবন্ধী ছোট ছেলেকে নিয়ে বাঁচতে চান

‎মোঃ মকবুলার রহমান

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি।।

‎নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সবজিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানের পূর্ব পাশে শব্দিগঞ্জ ফরেস্ট  সংলগ্ন এলাকায় অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে মোছাঃ ছকিনা খাতুনের। তিন সন্তানের জননী এই নারী দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও পারিবারিক অসহায়ত্বের মধ্যে প্রতিবন্ধী ছোট ছেলেকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন।

‎ছকিনা খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে মারুফার বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। মেজো মেয়ে মুনতাহার বয়স আনুমানিক ৬ বছর। আর ছোট ছেলে মারুফের বয়স প্রায় ১বছর । সে জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানো এবং অসুস্থ ছোট ছেলের সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন ছকিনা।

‎জানা গেছে, মারুফ নিজে বসে থাকতে পারে না। দিনের অধিকাংশ সময় তাকে শুয়ে থাকতে হয়। কোলে নিলে তার মাথা একদিকে নুইয়ে পড়ে এবং সে একদিকে তাকিয়ে থাকে। জন্মের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক সমস্যার কারণে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়েও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে জানান তার মা।

‎ছকিনা খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল যে, সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই। চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যা চালিয়ে গেলে শিশুটির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসাও এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

‎ছকিনা খাতুন বলেন, “আমার তিন সন্তান। বড় মেয়ে মারুফার বয়স প্রায় ১৩ বছর, মেজো মেয়ে মুনতাহার বয়স প্রায় ৬ বছর। আর ছোট ছেলে মারুফ জন্ম থেকেই এমন। সে নিজে বসতে পারে না, সবসময় শুয়ে থাকে। কোলে নিলে মাথা একদিকে নুইয়ে পড়ে এবং একদিকে তাকিয়ে থাকে। অনেক চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু তেমন ভালো ফল পাইনি। ডাক্তার বলেছেন দীর্ঘদিন চিকিৎসা করালে হয়তো ভালো হতে পারে। কিন্তু এখন আমার কাছে চিকিৎসা করানোর মতো কোনো টাকা-পয়সা নেই।”

‎তিনি আরও বলেন, “আমার স্বামী মাসুম বিল্লাহও আমাদের কোনো খোঁজখবর নেন না। তিন সন্তানকে নিয়ে আমি একাই খুব কষ্টে আছি। আমার সবচেয়ে বড় চিন্তা ছোট ছেলে মারুফকে নিয়ে। কেউ সহযোগিতা করলে আবার তার চিকিৎসা শুরু করতে পারব।”

‎স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছকিনা খাতুনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিশুটির সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুটির দেখাশোনার কারণে নিয়মিত কাজ করে উপার্জন করার সুযোগও তার সীমিত।

‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারটির আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এগিয়ে এলে শিশুটির চিকিৎসা আবারও শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

‎এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পরিবারটিকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিশু মারুফের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

‎তিন সন্তান মারুফা, মুনতাহা ও মারুফকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ছকিনা খাতুনের সবচেয়ে বড় আকুতি, অর্থের অভাবে যেন ছোট ছেলে মারুফের চিকিৎসা থেমে না যায়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় শিশুটির অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা থাকলে সেই সুযোগটুকু নিশ্চিত করতে মানবিক মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান অসহায় এই মা।

‎

No comments