আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের নাম তাকওয়া


তাকওয়া মুমিনের অত্যাবশ্যকীয় গুণাবলির একটি। তাকওয়াহীন জীবন একজন ব্যক্তিকে পরিপূর্ণ মুমিনে রূপান্তর করতে পারে না। আল্লাহতায়ালা কুরআন মাজিদের প্রায় ২৭টি স্থানে তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য সুসংবাদ দিয়েছেন। কখনো কখনো বলেছেন, মুত্তাকিরাই সফলকাম, কখনো তাদের জন্য ঘোষণা করেছেন ক্ষমা এবং মাগফিরাত। এভাবেই আল্লাহতায়ালা তাকওয়া অবলম্বনকারীদের সম্মানিত করেছেন।

তাকওয়া শব্দের শাব্দিক অর্থ আল্লাহ ভীতি হলেও এর পারিভাষিক অর্থ হলো-আল্লাহর আদেশগুলো পালন করা এবং নিষেধগুলো বর্জনের নামই তাকওয়া। আল্লাহ আমাকে দেখছেন এ কথা অন্তরে জাগ্রত রাখা। আজকাল আমরা অনেক আধুনিক শপিং কমপ্লেক্স অথবা বিভিন্ন অফিস কক্ষের দেওয়ালে ছোট্ট করে এ লেখা দেখতে পাই যে, আপনার গতিবিধি লক্ষ করা হচ্ছে কিংবা রেকর্ড করা হচ্ছে। এটা দেখা মাত্রই মানুষ সতর্ক হয়। কারণ সে জানে কোনো অবৈধ কাজ করলে সে পাকড়াও হতে পারে। তেমনিভাবে আল্লাহতায়ালাও বলছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা যা কর তা তিনি জানেন’। (নাহল ৯১)।

যেসব ইবাদত পালনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো রোজা। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন কর’। (বাকারা ১৮৩)।

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে অন্তরে তাকওয়া জাগ্রত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই দিন ও রাতের পরিবর্তনে এবং আসমানসমূহ ও জমিনে যা সৃষ্টি করেছেন তাতে নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে’। (ইউনুস ০৬)।

রাসূলকে অনুসরণ, অনুকরণ এবং তাকে ভালোবাসার মাধ্যমে ব্যক্তি তার অন্তরে তাকওয়ার নুর সৃষ্টি করতে পারে। আল্লাহতায়ালা এজন্য রাসূলের মর্যাদা বুঝাতে গিয়ে কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন-

‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য যাচাই করে নিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার’। (হুজুরাত ০৩)। এছাড়া বিভিন্ন আমলের দ্বারা মুমিন অন্তরে তাকওয়ার প্রতিফলন ঘটে। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাকওয়া অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

সুত্র: যুগান্তর

প্রকাশ:০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, 

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post