জনগণের আয় না বাড়লে উন্নয়ন টেকসই হবে না: বিআরডিবিকে গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মানুষের আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা না হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন কোনো কাজে আসবে না। গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, "স্কুল, রাস্তা কিংবা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও জনগণের যদি আয়ের ভিত্তি তৈরি না হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল মানুষ পাবে না।"
বিআরডিবির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা। বর্তমানে সারা দেশে বিআরডিবির প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার সংগঠন এবং প্রায় ৫৪ লাখ সদস্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিশাল জনশক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গাইবান্ধার মিতু বেগমের সাফল্যের গল্প তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিআরডিবির সহযোগিতা, নেতৃত্ব এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন সাধারণ নারীও কীভাবে সফল হতে পারেন, তার বাস্তব উদাহরণ তিনি সৃষ্টি করেছেন। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ এখনও উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছানোর পথে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অনেক মানুষ এখনও দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করছেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমান খাল খনন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উচ্চ ফলনশীল ধানের প্রসার, গ্রাম সরকার গঠন এবং শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীদের শিক্ষা বিস্তারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, নারীদের শিক্ষিত করা গেলে পুরো জাতিই এগিয়ে যাবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ের দাবি করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বিআরডিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকেও দীর্ঘদিন কার্যকরভাবে পরিচালিত করা হয়নি।
তিনি বলেন, কোনো জাতি বা ব্যক্তি অন্যের ওপর নির্ভর করে উন্নত হতে পারে না। নিজেদের উদ্যোগ, পরিশ্রম এবং সংগঠিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে হবে।
সম্প্রতি লালমনিরহাট সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিনি বিআরডিবির সংগঠনগুলোকেও এ ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করে প্রথমে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজন হলে পুনর্বাসন এবং শেষ পর্যন্ত আইনের আওতায় আনার মতো সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একইভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবার অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে গ্রামের মানুষের আয় বাড়াতে হবে, শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং সামাজিকভাবে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারলেই দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
Post a Comment