এম এ ওয়াহেদ, লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে নারী-পুরুষ ও পলাতক আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) গ্রেপ্তারদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হবিগঞ্জ জেলা সদরের সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রণয় কুমার সরকার ও বিপুল চন্দ্র দেবনাথ এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফিরোজ আলম, খায়রুল ইসলাম, আব্দুল ছালাম, অরবিন্দু ও ওয়াসিমসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানকালে মোড়াকরি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মৃত জিতু মিয়ার ছেলে রফিক মিয়া (৫৪), অনু মিয়ার ছেলে আবদাল মিয়া (২৮), জুলু মিয়ার ছেলে কাজল মিয়া (৩৩), মৃত মতলিব মিয়ার ছেলে মারুফ মিয়া (৪৪), ফারুক মিয়ার ছেলে শান্ত মিয়া (২০), মৃত জিতু মিয়ার মেয়ে শিউলী বেগম (৩৮) এবং মৃত জিতু মিয়ার স্ত্রী আকাশী বেগম।
এদিকে একই রাতে পুলিশের আরেকটি পৃথক অভিযানে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বজনগ্রাম তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে রাতের নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এ সময় লাখাই উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়নের একটি সড়কে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গভীর রাতে রাস্তায় ঘোরাফেরার বিষয়ে তারা সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে না পারায় পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত ওয়ারেস মিয়ার ছেলে ফজল মিয়া (৩২) এবং লাখাই উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসেদ মিয়ার ছেলে মাস্টার মিয়া (৩৫)। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জনকে সোমবার (২ নভেম্বর) যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রিজনভ্যানযোগে হবিগঞ্জ জেলা সদরের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে।
0 Comments