লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে টানা দুই বছর হতাশাজনক ফল

এম এ ওয়াহেদ, লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখায় শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টানা দুই বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল হতাশাজনক। ২০২৫ সালে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল মাত্র একজন। আর ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুজন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। পরপর দুই বছর এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান ব্যবস্থা, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

লাখাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ থেকে ৩৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪৬ জন। মনতৈল মডেল কলেজ থেকে ২২ জনের মধ্যে পাস করেছে তিনজন। ভবানীপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে দুজন।

অন্যদিকে, মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাত্র দুজন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। একই উপজেলায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জিরুন্ডা মানপুর তোফালিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪ জন।

প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছিল। আর ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় দুজনে। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির উচ্চমাধ্যমিক শাখার শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, কলেজ শাখায় ভর্তি হলেও এবারের দুই পরীক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসত না। তাদের একজনের বিয়ে হয়ে গেছে এবং অন্যজনও কলেজে উপস্থিত হতো না। কলেজ শাখার পাঠদান কার্যক্রম হাইস্কুলের শিক্ষকদের দিয়েই পরিচালনা করা হতো বলে জানান তিনি।

লাখাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কলেজ শাখায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষকসংকট রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর একাডেমিক তদারকি। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।

টানা দুই বছর পরীক্ষার এমন ফলাফলের পর মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং পাঠদান কার্যক্রম গতিশীল করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Post a Comment

0 Comments