‘আল্লাহর বিধানেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব’—প্রভাষক গোলাম আযম


ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
চিলাহাটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মুহাম্মদ গোলাম আযম বলেছেন, মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অর্থ হলো মহান আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলা এবং তাঁর দেওয়া বিধান মেনে জীবন পরিচালনা করাই একজন প্রকৃত মুসলমানের দায়িত্ব। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

সম্প্রতি এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে মুহাম্মদ গোলাম আযম বলেন, মুসলমান শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণকারী। যারা নিজেদের মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেন, তাদের উচিত আল্লাহর নির্দেশের কাছে নিজেদের সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করা। আল্লাহ যে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং যেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। শুধু মুসলমান পরিচয় ধারণ করলেই হবে না, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান অনুসরণের মাধ্যমে সেই পরিচয়ের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘আলা লাহুল খালকু ওয়া লাহুল আমরু’—সৃষ্টি ও নির্দেশ দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আসমান-জমিনসহ সমগ্র সৃষ্টিজগতের মালিক আল্লাহ। মানুষও তাঁর সৃষ্টি। সুতরাং মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় বিধানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সরকার দেশ পরিচালনা করলেও কাঙ্ক্ষিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, সমাজে প্রকৃত শান্তি, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোরআনের শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে।

নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ৮৫ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো কাজে সুপারিশ বা সহযোগিতা করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়। একইভাবে মন্দ কাজে সহযোগিতা করলে তার দায়ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তায়। তাই জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা, নৈতিকতা, যোগ্যতা ও আল্লাহভীতিকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। একজন অসৎ ব্যক্তিকে নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করলে তাঁর অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সরকারকে মানুষ দেখেছে। কিন্তু মানুষের প্রত্যাশিত শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে তাঁর দাবি। তাই আগামী দিনে এমন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে, যারা সৎ, নীতিবান, ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ও মনোনয়ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এবারের নির্বাচনে এমন ব্যক্তিদের সমর্থন করা উচিত, যারা আল্লাহভীরু, সৎ, যোগ্য এবং কোরআনের আদর্শ অনুযায়ী সমাজ পরিচালনায় বিশ্বাসী। তিনি উপস্থিত সবার প্রতি বিবেক ও নৈতিকতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানান।

Post a Comment

0 Comments