কাওছার আহমেদ,জামালপুর প্রতিনিধি।।
জামালপুরের ইসলামপুরে পারিবারিক বিরোধ ও শারীরিক নির্যাতনের জেরে মঞ্জুয়ারা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন (৪০)সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোছাঃ রিনা খাতুন বাদী হয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইসলামপুরের বিজ্ঞ সি.আর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৮০৯(১)/২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে তার মেয়ে মঞ্জুয়ারা খাতুনের সঙ্গে ৩ নম্বর আসামির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। ছোট সন্তান আশিফের বয়স যখন মাত্র ১২ দিন, তখন ১ নম্বর আসামি মোঃ লোকমান তাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে লোকমান তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ৫ নম্বর আসামিকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর শিশু আশিফের ওপর নির্যাতন শুরু হলে মঞ্জুয়ারা এর প্রতিবাদ করেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় মঞ্জুয়ারার সঙ্গে আসামিদের বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং এর জেরে তাকে বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ইসলামপুর থানাধীন ৪ নম্বর চর এলাকার ৩ নম্বর আসামির বাড়ির উঠানে শিশু আশিফকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মঞ্জুয়ারা এতে বাধা দিলে আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরজিতে আরও বলা হয়, ৭ নম্বর আসামির নির্দেশে ১ নম্বর আসামি কাঠের চলা দিয়ে মঞ্জুয়ারার মাথায় আঘাত করেন। ২ নম্বর আসামি তার কণ্ঠনালী চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং ৯ নম্বর আসামি চুল ধরে তাকে উঠানে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ৩ নম্বর আসামি বাঁশের ফাল্টা দিয়ে মঞ্জুয়ারার উরুতে আঘাত করেন এবং ৪ নম্বর আসামি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় ১০ নম্বর আসামি মোঃ হামিদুর রহমান মলিনের বিরুদ্ধে বাঁশের বাতি দিয়ে মঞ্জুয়ারার কপাল ও ডান কাঁধে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে ৫, ৮, ১০ ও ১১ নম্বর আসামিসহ অন্যরা বাঁশের শলার ঝাড়ু ও রশি ব্যবহার করে তাকে বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং যৌনাঙ্গে লাথি মেরে নির্যাতন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মঞ্জুয়ারার মৃত্যু হয়।
মামলার আরজিতে আরও অভিযোগ করা হয়, মঞ্জুয়ারার মৃত্যুর পর আসামিরা তার গলায় রশি লাগিয়ে মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে মরদেহটি উঠানে রেখে দেওয়া হয় বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা মরদেহ দাফন করেন।
বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনার পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরে বাধ্য হয়ে নিহতের মা রিনা খাতুন আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে, মামলায় অভিযুক্ত হামিদুর রহমান মলিনসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
0 تعليقات