তিন সন্তানের জননীকে স্ত্রী দাবি ভূমি অফিসের কর্মচারীর, থানায় অভিযোগ

বিমল কুমার রায় , পঞ্চগড় প্রতিনিধি: 

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তিন সন্তানের জননীকে নিজের স্ত্রী দাবি করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত। ওই নারীকে বিয়ে করা নিয়ে বিরোধের জেরে সফিকুল ইসলাম ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা নারীর আগের স্বামীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারীর আগের স্বামী বেলাল হোসেন।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের খুটামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সফিকুল ইসলাম প্রায়ই খুটামারা এলাকায় আছিম উদ্দিনের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তবে আছিম উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিবেশীরা আগে কিছু জানতেন না। বুধবার বিকেলে সফিকুল ওই বাড়িতে গেলে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় সফিকুল জানান, আছিম উদ্দিন তার শ্বশুর এবং তার মেয়ে আঞ্জুয়া বেগমকে তিনি বিয়ে করেছেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আঞ্জুয়া বেগমের স্বামী হিসেবে তারা দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা সবুজপাড়া এলাকার বেলাল হোসেনকে চেনেন। তাদের জানা মতে, আঞ্জুয়া ও বেলালের প্রায় ২৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে আঞ্জুয়া বেগম জানান, তিনি আগের স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তালাকের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। তালাকের কাগজপত্র আগের স্বামীর ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন আঞ্জুয়া।

এদিকে সফিকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমীনের সঙ্গে তার সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সফিকুলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে সফিকুল ইসলাম পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ কারণে প্রায় তিন মাস আগে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। বুধবার হঠাৎ করে তিনি সফিকুলের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ের দাবির বিষয়টি জানতে পারেন। স্ত্রীর তালাক প্রদানের কোন কোন কাগজও পাননি। এ ঘটনায় তিনি দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

তবে সফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল তার শ্বশুর ফোন করে দেখা করতে বলায় তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। ইসলামি শরিয়াহ মেনে তারা বিয়ে করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই।

إرسال تعليق

0 تعليقات