এমপিকে পাশে বসিয়ে সাধারণ পোশাকে পুলিশ, মিঠাপুকুর থানায় শিষ্টাচার ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন

সাজেদুর রহমান
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি।।

রংপুরের মিঠাপুকুর থানায় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্ধারিত ইউনিফর্ম ছাড়া সাধারণ পোশাকে দেখা যাওয়ায় পুলিশের দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মিঠাপুকুর থানায় রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর উপস্থিতিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সভায় থানার এসআই ও এএসআইসহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে তাদের অনেকের পরনে ছিল না পুলিশের নির্ধারিত ইউনিফর্ম। গুরুত্বপূর্ণ একজন জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক সভায় দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের সাধারণ পোশাকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ বাহিনীর নির্ধারিত পোশাক শুধু বাহ্যিক পরিচয়ের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাহিনীর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, কর্তৃত্ব এবং জনআস্থার বিষয়। বিশেষ করে থানার মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানে কোনো আনুষ্ঠানিক সভা বা দাপ্তরিক কর্মসূচিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পোশাক ও আচরণে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে থানার আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্ধারিত পোশাক ছাড়া অংশ নেন, তাহলে সেখানে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও ড্রেস কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের আরও বক্তব্য, কোনো কর্মকর্তা বিশেষ কারণে ইউনিফর্ম পরতে না পারলে তার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। তবে বিষয়টি যদি নিয়মিত দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ব্যত্যয় হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দৃশ্য কেন দেখা গেল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাও প্রত্যাশিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সভার দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পোশাকবিধি অনুসরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ছিল কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা হোক। কোনো বিধি বা দাপ্তরিক নির্দেশনা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হোক।
তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের আচরণ ও উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি প্রতিফলিত হয়। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পোশাক, আচরণ, শিষ্টাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

Post a Comment

0 Comments