দেবীগঞ্জে একই সপ্তাহে দুই শিশু কন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ
বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষন মামলায় অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ নামে এক মধ্যবয়সী পুরুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত বৈদ্যনাথ রায় উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ঢাঙ্গীরহাট বৈরাগী পাড়া এলাকার রামচরন রায়ের ছেলে।
জানা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিবেশী দুই শিশুকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বৈদ্যনাথ রায় নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিবাহিত এবং তার তিন সন্তান রয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগী এক কন্যা শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। এদিকে ঘটনা জানাজানির পর অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিবেশী এক হিন্দু শিশু ও এক মুসলিম শিশুকে পৃথকভাবে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে এই অপচেষ্টা চালায়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আমেনা আক্তার (ছদ্মনাম) নামের এক শিশুকে লটকন দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয় বৈদ্য রায়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, বেশ কিছুক্ষণ মেয়েকে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় অন্য শিশুরা জানায়, বৈদ্যনাথ তার মেয়েকে ঘরের দিকে নিয়ে গেছে। প্রথমে গিয়ে সন্ধান না পেলেও, দ্বিতীয়বার খুঁজতে গেলে অভিযুক্তের ভাতিজা সুনিল (ছদ্মনাম) জানায় শিশুটিকে টয়লেটে আটকে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির মা আরও বলেন, তার মেয়েকে ঘরে নিয়ে পোশাক খুলে ধর্ষণ করে বৈদ্যনাথ। বৃহস্পতিবার তেমন কিছু বুঝতে না পারলেও শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে ঘুম থেকে উঠে শিশুটি অসুস্থ হওয়ায় এবং ঠিক ভাবে হাঁটতে না পারায় বিকেল ৩টার দিকে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানিয়া জাহান সুকন্যা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর প্রতিবেশী সেলিনা আক্তার জানান, অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায়ের ভাতিজা শিশু সুনীলসহ (ছদ্মনাম) অন্য শিশুরা ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাদেরকে প্রথমে টাকার লোভ দেখায় বৈদ্যনাথ। পরবর্তীতে শিশুরা রাজি না হলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় অভিযুক্ত।
এদিকে এলাকাবাসী আরও জানায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) একই এলাকার তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়া বিন্দু রানী (ছদ্মনাম) নামের অপর এক আট বছর বয়সী শিশুকেও একইভাবে লটকন দেওয়ার কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে বৈদ্যনাথ রায়। একই সময় মেয়েকে দেখতে না পেয়ে শিশুটির মা ডাকাডাকি করলে বৈদ্যনাথ শিশুটিকে ছেড়ে দিলে সে নিজ বাসায় চলে যায়। শিশুটি তৎক্ষনাৎ তার মাকে কিছু না বললেও পরে সব খুলে বলে।
বৃহস্পতিবারের (৯ জুলাই) ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় শুক্রবার এজাহার জমা দেন। পরে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এইদিকে পুলিশ ও ডিবি'র যৌথ অভিযানে শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় বোদা এলাকা থেকে তার বোনের বাসা যাওয়ার পথে গ্রেফতার করা হয়।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি আবু মূসা মামলা রেকর্ড ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Post a Comment