নিজস্ব প্রতিবেদক:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক বিরোধ অবশেষে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রাখতে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল ইসলামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সমঝোতা বৈঠকে উভয় পক্ষ বিরোধ ভুলে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ১১টায় জলঢাকা থানায় আয়োজিত এ বৈঠকে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ মতপার্থক্যের অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়ে একমত হন।
জানা গেছে, গত ৩ জুন উপজেলার কাঠালী ইউনিয়নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ধীরে ধীরে দুই সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রভাব ফেলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন জলঢাকা থানার ওসি নাজমুল ইসলাম। তার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধের কারণ, পারস্পরিক অভিযোগ এবং সমাধানের উপায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের উপজেলা নায়েবে আমীর কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা অতীতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ভবিষ্যতেও ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ ভুলে সম্প্রীতির রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী নেতারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য বা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যাতে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের উপজেলা নায়েবে আমীর কামরুজ্জামান, উপজেলা সেক্রেটারি মোহাম্মাদ আল হাসান, সহকারী সেক্রেটারি মুজাহিদ মাসুম, কাঠালী ইউনিয়ন আমীর সিদ্দিকুর রহমান বিপ্লব, বিএনপির সাবেক ছাত্রদল সভাপতি লেলিন, কাঠালী বিএনপির সভাপতি ভানু মিয়া, অ্যাডভোকেট শাহিন ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মমতাজুল মিঠু এবং উপজেলা শিবির সভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ উভয় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বৈঠক শেষে নেতারা রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রেখে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয়দের মতে, এই সমঝোতা জলঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

0 Comments