সর্বস্ব হারানো মানুষের পাশে বিএনপি নেতা:অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ
সাজেদুর রহমান, মিঠাপুকুর প্রতিনিধি।।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৭ নং লতিফপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামে গত (৭ই জুলাই) এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।হঠাৎ লাগা এই আগুনে পরিবারের বসতঘর,আসবাবপত্র ও যাবতীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু হারিয়ে পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত মোকছেদুল ইসলাম খট্টুর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হক ইমনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।এ সময় নাজমুল হক ইমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকদের খোঁজখবর নেন, আবেগাপ্লুত ও নিঃস্ব পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ করেই মাহমুদপুর গ্রামের মোকছেদুল ইসলাম খট্টুর বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এর মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের ভয়াবহ রূপ ধারণ করে তা আশপাশের বাড়িগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা প্রাণপণ চেষ্টা চালায় ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দেয়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু তার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঞ্চিত অর্থ, জমির দলিল, ধান-চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।সর্বস্ব হারিয়ে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরনের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। খোলা আকাশের নিচে থাকা এই পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক খাদ্য, বস্ত্র ও মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিএনপি'র নেতা নাজমুল হক ইমন বলেন, এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পুনর্বাসন এবং ঘরবাড়ি মেরামতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি ও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে।দুর্ঘটনার পরপরই মামুদপুর গ্রামের এর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, এই দুর্যোগের মুহূর্তে শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নয়, বরং সমাজের বিত্তবান ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনকে তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দ্রুত সরকারি অনুদান ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা সময়ের দাবি।
Post a Comment