বিদ্যালয়ের হলরুমে ফুলঝাড়ু তৈরির কারখানার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ডোমার (নীলফামারী):
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের চান্দখানা ঘুনুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুম একটি ফুলঝাড়ু তৈরির কারখানার গুদাম ও উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে নতুন চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও উদ্বোধনের পর পুরোনো ভবনের একটি বড় হলরুম অব্যবহৃত ছিল। ওই হলরুমে আগে বিদায় সংবর্ধনা, নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অভিভাবক সমাবেশসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস আগে প্রধান শিক্ষক ওই হলরুম স্থানীয় ব্যবসায়ী মনছুর আলীর কাছে ভাড়া দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে ফুলঝাড়ু তৈরির কাজ করা হচ্ছে। তৈরি হওয়া পণ্য সেখান থেকেই বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হচ্ছে। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে শ্রমিকদের উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং কারখানার কার্যক্রম পরিচালনার কারণে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রিফাত ইসলাম বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলরুম বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দুলু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের হলরুম ভাড়া দিয়ে সেখানে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে কাজ করেন, যা শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার সাফিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে এখনো আমাদের কাছে আসেনি। তবে এমন কিছু হয়ে থাকলে তা শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো শুধুমাত্র শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
Post a Comment