Trending

6/recent/ticker-posts

করতোয়ায় ড্রেজার ও শ্যালো মেশিনে বালু উত্তোলন, ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড



বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীতে বালু উত্তোলনে নিষিদ্ধ ড্রেজার, শ্যালো মেশিন ও এক্সকাভেটর দিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

সোমবার (১৫ জুন) সরেজমিনে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের করতোয়া নদীর টাকাহারা, সোনাপোতা ও তেলীপাড়া এলাকায় গিয়ে একাধিক স্থানে ড্রেজার, শ্যালো মেশিন ও এক্সকাভেটরের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী নদী থেকে উত্তোলিত বালু ট্রাকে লোড দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি এক্সকাভেটর দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে লোড করা হচ্ছে। এছাড়া ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে পাইপের সাহায্যে ট্রাক্টরে তোলা হচ্ছে। অভিযানের খবর পেলেই যন্ত্রপাতি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে দেবীডুবা ঘাটের টাকাহারা, হালিমের ঘাট ও তেলীপাড়া ঘাটের অন্তত চারটি সাব-পয়েন্টে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছে। 

জানা যায়, ২০২১ সালের পর প্রশাসনের তৎপরতায় করতোয়া নদীতে ড্রেজার ও এক্সকাভেটরের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন মেয়াদে তিনটি বালুমহাল ইজারা দেওয়ার পর আবারও যান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই মাসে ড্রেজার ও এক্সকাভেটর বন্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক অভিযান হয়নি। 

সকাল সাড়ে এগারোটায়  সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ বিন জিয়া দেবীডুবা ইউনিয়নের তেলীপাড়া পয়েন্টে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন কালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।  ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইজারাদার প্রতিনিধি রাজীব ইসলামকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে "বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা" অনুযায়ী ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করেন। 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, “নদীতে ড্রেজার, শ্যালো মেশিন ও এক্সকাভেটর ব্যবহার বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইন প্রয়োগে কঠোরতা না থাকলে করতোয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।”

Post a Comment

0 Comments